ধম্মদায়দসুত্ত: কিভাবে ধর্মের উত্তরাধিকারী হওয়া যায়?

এই সূত্রে প্রথমে বুদ্ধ ভিক্ষুদেরকে উপদেশ দিয়ে বলেন যে বস্তুগত বিষয়ে বুদ্ধের উত্তরাধিকারী না হয়ে ভিক্ষুরা যেন ধর্মের উত্তরাধিকারী হয়। নয়তো সাধারণ মানুষ তাঁদেরকে নিন্দা করবে। উদাহরণ দিয়ে বুদ্ধ বলেন, মনে কর কখনো তথাগত বুদ্ধ পর্যাপ্ত পরিমাণ আহার গ্রহনের পর কিছু খাবার অবশিষ্ট রয়েছে। এ সময় দুজন ভিক্ষু, যারা তখনও আহার করেনি, ক্লান্ত শ্রান্ত হয়ে সেস্থানে প্রবেশ করে। বুদ্ধ তাদেরকে বলেন, ভিক্ষুগণ, আমার আহার সমাপ্ত হয়েছে এবং এখানে কিছু খাবার অবশিষ্ট আছে। তোমাদের ইচ্ছা হলে এই আহার গ্রহণ করতে পার, নয়তো আমি ঘাস এবং প্রাণী নেই এরূপ স্থানে ইহা নিক্ষেপ করব। বুদ্ধ এভাবে বলার পর প্রথম ভিক্ষু চিন্তা করল, বুদ্ধ যদিও আমাদেরকে এই অবশিষ্ট আহার গ্রহণের জন্য বলেছেন, তিনি এও বলেছিলেন যে ভিক্ষুরা যেন বস্তগত বিষয়ে নয়, ধর্মে তাঁর উত্তরাধিকারী হয়। সুতরাং, এই আহার গ্রহণ করা আমার উচিত হবে না। এই চিন্তা করে প্রথম ভিক্ষুটি আহার গ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত নেন এবং পরের দিন প্রাতরাশ পর্যন্ত সে না খেয়ে ক্ষুদার্ত এবং দুর্বল হয়েই থাকল। বিপরীতে দ্বিতীয় ভিক্ষুটি চিন্তা করল বুদ্ধ পর্যাপ্ত পরিমানের আহার গ্রহণ করার পর কিছু অবশিষ্ট আছে যেটা বুদ্ধ ঘাস এবং জল নেই এরূপ স্থানে নিক্ষেপ করবেন। আমি এই আহার গ্রহণ করে ক্ষুদা নিবৃত করে সবল হযে রাত্রি যাপন করবো। এরূপ চিন্তা করে সে তাই করল। এই দুজনের মধ্যে, বুদ্ধ বলেছেন প্রথম ভিক্ষুটিই প্রশংসনীয় হবেন কারণ সে বস্তুগত বিষয়ে নয়, ধর্মেরই প্রকৃত উত্তরাধিকারী। এক রাত কষ্ট হলেও, তাঁর স্বল্পেচ্ছা, সন্তুষ্টি, তপস্যা, এবং উদ্যমশীলতা এই গুণাবলিগুলির প্রভাবে ভিক্ষুটির চিন্তা বিমুক্তির পথে দীর্ঘমেয়াদি ফল বয়ে আনবে। বুদ্ধ এরূপ দেশণা দিয়ে সে স্থান ত্যাগ করেন।

এরপর সারিপুত্র মহাস্থবীর একই বিষয়ের উপর বিস্তৃত করে বলেন কিভাবে ধর্মের উত্তরাধিকারী হওয়া যায়। তিনি বলেন তিনটি বিষয়ে জৈষ্ঠ, মধ্যম, ও কনিষ্ট সকল বয়সের ভিক্ষুদের মধ্যে অনেকেই নিন্দনীয় কারণ তাঁরা বুদ্ধের উপদেশ যথাযথভাবে পালন করে না। সেই তিনটি বিষয় হচ্ছে –

১) বুদ্ধশিশ্যদের উচিত নির্জনবাস করা কিন্তু অনেকেই সেটা করে না।

২) বুদ্ধের আদেশানুসারে যে বিষয়াদি পরিহার করা উচিত (যেমন: লোভ, দ্বেষ, মোহ, কুঅভ্যাস ইত্যাদি) অনেকে তা করে না।

৩) তাঁরা বিলাসপ্রিয়, অসতর্ক, আর্য্যপথে অগ্রসরবিমূখ এবং নির্জনবাসে নারাজ।

যারা এ তিন প্রকার দোষ হতে মুক্ত তথাগত বুদ্ধ তাদেরকে প্রশংসা করেন। তারপর তিনি বলেন মানুষের প্রধান শত্রু বা পাপ হচ্ছে লোভ, দ্বেষ, ক্রোধ, আক্রোশ বা পরের অমঙ্গল কামনা, কপটতা, বিদ্বেষ, ঈর্ষা, মাত্সর্য্য,  প্রবঞ্চনা, শঠতা, অনমনীয়তা, উগ্রতা, দম্ভ, অতিদাম্ভিকতা, মোহ, প্রমত্ততা। এগুলো থেকে মুক্ত হবার জন্য আর্য্য অষ্টঙ্গিক মার্গ নামে পরিচিত মধ্যম পথ অবলম্বন করতে হবে।

(মজ্ঝিমা নিকায়, মূলপণ্ণাস, মূলপরিয়ায়বজ্ঞ, ধম্মদায়াদসুত্ত)

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s